Blog

মানসিক স্বাস্থ্য

_103579213_e08fd4c4-e431-43be-a8c1-dcd3fffd087c
Tips & Tricks

মানসিক স্বাস্থ্য

আজ ১০/১০/২০
বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস
____________________
মানসিক স্বাস্থ্য: মানসিক স্বাস্থ্য কেমন তা আমাদের মন, আচরণগত ও আবেগপূর্ণ স্বাস্থ্যের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। আমরা কি চিন্তা করি, কি অনুভব করি এবং জীবনকে সামলাতে কিরকম ব্যবহার করি এগুলোই আসলে আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য।
একজন মানসিক ভাবে সুস্থ মানুষ নিজের সম্পর্কে ভালো ভাবে এবং কখনোই কিছু আবেগ যেমন রাগ, ভয়, হিংসা, অপরাধবোধ বা উদ্বেগ দ্বারা আবিষ্ট হবেনা।জীবনে যখন যেরকম চাহিদা আসে তা সামলে নেওয়ার ক্ষমতা তারা রাখে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, মানসিক স্বাস্থ্য বলতে একজন মানুষের ভেতর শুধু কোনো ধরনের মানসিক সমস্যা না থাকাকে বোঝায় না। বরং মানুষ হিসেবে নিজের সক্ষমতাকে অনুধাবন করার সক্ষমতা, আত্মনিয়ন্ত্রণের ভেতর দিয়ে সৃজনশীল ও উৎপাদনশীল কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত থাকা, দৈনন্দিন জীবনের পারিপার্শ্বিক চাপের সঙ্গে ভারসাম্য রেখে চলা এবং সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নে অবদান রাখার সক্ষমতাকে মানসিক স্বাস্থ্য বলে।
আমরা আমাদের শারিরক স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য অনেক ফল ও ভালো পুষ্টিকর খাওয়া দাওয়া করে থাকি, কিন্তু আমরা আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য কি তেমন কোন প্রদক্ষেপ গ্রহণ করি?? হুম আমরা ঠিক তেমন কোন মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নি না। অথচ আমাদের শারীরিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য মানসিক স্বাস্থ্য অনেক বেশি ভূমিকা রাখে।
শারিরিক জিবনে মানসিক স্বাস্থ্যের ভুমিকা: একটু খেয়াল করে দেখুনতো আমরা যখন কোন সমস্যা নিয়ে টেনশন করি তখন আমাদের মাথা ব্যাথ্যা হয়, কোন কাজ করতে পারিনা প্রাপারলী, কোন ভালো খাবারে রুচি বা মন বসে না, কোন খাবার খেলেও তা বদ হজম হয়, শরির রীতিমতো ভাঙতে থাকে, কারো সাথে সুন্দর ভাবে গুছিয়ে কথা বলা থেকে শুরু করে, কোন ভাবেই আত্ম নিরভরশী হতে পারি না, আচরন খুব খিটখিটে হয়, অনেক ডিপ্রেশনে ভুগে, ইনিশটেন্ট বুদ্ধি লোপ, একসময় আত্মহত্যা সহ এমন ধরনের সমস্যা হয় যা আমাদের শারিরিক জিবনে খুব বেশি প্রভাব পেলে।
প্রক্ষান্তরে একজন মানসিক সু-স্বাস্থ্যের অধিকারীর ক্ষেত্রে এসবের বিপরিত ঘটে- এবং নিজের জিবনকে খুব সুন্দর করে সাজাতে পারে।
মানসিক স্বাস্থ্য খারাপ হওয়ার কিছু কারন : এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব মানুষ মানসিক স্বাস্থ্য–সমস্যা নিয়ে প্রথমবারের মতো হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন, তাঁদের মধ্যে ৫.৭ শতাংশ মনে করেন মনোরোগ চিকিৎসকেরা তাঁদের পাগল হিসেবেই মূল্যায়ন এবং চিকিৎসা করবেন। অথচ এটি একটি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ধারণা। শরীরের ভেতর যেমন সমস্যা হয়, মনের ভেতরও তেমনি সমস্যা হতে পারে। মানসিক স্বাস্থ্য–সমস্যা এবং চিকিৎসা বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য ও জ্ঞান না থাকার কারণে অনেকে এই ধরনের সমস্যা সমাধানের জন্য পীর, ফকির, ওঝা, কবিরাজ ও হাতুড়ে চিকিৎসকের কাছে যায় এবং অবৈজ্ঞানিক উপায়ে চিকিৎসা গ্রহণ করে, যেটার দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল বেশ খারাপ হতে পারে।
জিন/বংশগত ত্রুটি, নেতিবাচক পরিবেশে নেতিবাচক অভিজ্ঞতার ভেতর বেড়ে ওঠা, ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষণ প্রক্রিয়া/লার্নিং প্রসেস, দুর্বল পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক, দরিদ্রতা, নেতিবাচক প্রতিযোগিতার মানসিক চাপ, লোভ, ঘৃণা, মাত্রাতিরিক্ত আমিত্ববোধ, সর্বোপরি জীবন ও জগৎ সম্পর্কে অবাস্তব ও অসত্য দৃষ্টিভঙ্গির চর্চা ইত্যাদি মানসিক স্বাস্থ্য–সমস্যা তৈরিতে প্রধান প্রভাবক হিসেবে কাজ করে।
জীবনে চলার পথে সবাই কমবেশি মানসিক জটিলতার ভেতর দিয়ে যায়। কেউ কেউ সেসব জটিলতাকে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারে, আবার কেউ কেউ সেগুলোকে সঠিকভাবে মোকাবিলা করতে না পেরে ভেঙে পড়ে। আবার কেউ কেউ মোকাবিলা করতে গিয়ে সচেতন কিংবা অসচেতনভাবে এমন কিছু ত্রুটিপূর্ণ চিন্তা ও আচরণ করে, যা বিদ্যমান জটিলতাকে আরও গভীর সমস্যার দিকে নিয়ে যায়।
কিছু কিছু সমস্যা আছে যেগুলো সৃষ্টি হওয়ার পেছনে নেতিবাচক পরিবেশ, ত্রুটিপূর্ণ চিন্তা ও আচরণের ধরন, নেতিবাচক লাইফ-স্টাইল মূলত বেশি দায়ী থাকে; যেমন প্রাথমিক বিষণ্ণতা/ডিপ্রেশন, উদ্বিগ্নতা/অ্যানজাইটি, স্ট্রেস ইত্যাদি।
মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার উপায়ঃ
১। মেডিটেশন তবে আমি যেহেতু ইসলাম ধর্মের আনুষ্ঠানিকতায় বড় হয়েছি তাই আমি বলবো নামাজ সবছেয়ে বড় মেডিটেশন। আমরা যখন নামাজে সঠিক ভাবে মনোযোগী হই ঠিক তখন আমরা শুধু তখন আমরা সকল অন্যান্য সকল সমস্যা মাথায় থেকে ঝেড়ে পেলি। আর নামাজে উঠা বসায় আমাদের ব্রেইনে রক্ত সঞ্চারণ বৃদ্ধি পায় এবং ব্রেইন তার চাহিদা মতো কাজ করতে সক্ষম।
২। চিন্তা ভাবনায় ইতিবাচক হওয়া। নেতিবাচক চিন্তা ভাবনা আমাদেরকে বিভিন্ন ডিপ্রেশনে পেলে দেয়।
৩। প্রতিদিন নতুন কোন কিছু নিয়ে জ্ঞান অর্জন করা। আর এটি যদি কোরান অর্থ বুঝে পড়া হয় তাহলেতো আরো ভালো।
৪। প্রতি দিন নিয়মিত/পরিমাণ মতো ঘুম/বিশ্রাম নেওয়া। খাওয়ারে সচেতন হওয়া ও খাবার থেকে জাঙ্ক ফুড বাদ দেয়া।
৫। সকালের মিনিমাম ৩০ মিনিট ব্যয়াম আমাদের আমাদের সারাদিনের মনে প্রপুল্য রাখতে সাহায়তা করে। এক্ষেত্রে সকালের নামাজটা সময় মতো আদায় করলে সবছেয়ে ভালো হয়।
৬। কথা বলার সময় নিজেকে সংযম করা, আস্তে কথা বলা, নিজে বলার চেয়ে অন্যকে ভালো করে শুনে নেয়া। বড় কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে একটু সময় নেয়া ও অভিজ্ঞদের সাথে আলোচনা করে নেয়া।
৭। শুভাকাঙ্ক্ষীদের সাথে সময় ব্যায় করা এবং তাদের থেকে দূরে থাকা যারা অনুপ্রেরণা দেয়ার চেয়ে অস্বাভাবিক আচরন বেশি করে।
৮। যে কোন পরিবেশ, আচরণ, বা কাউকে ভুলে যাওয়ার জন্য মনে হলে, সে সকল পরিবেশ বা মানুষ থেকে দূরে যাওয়া। এ ক্ষেত্রে নিজেকে কাজের মধ্যে মনোযোগী রাখাটা ভালো কাজ করে।
৯। নতুন জায়গা ভ্রমণ করা।
১০। নিজেকে নিজের মূল্যায়ন করা, কারন নিজেকে যদি নিজে মূল্যায়ন না করি তাহলে এর চাইতে বেশি কেউ নিজেকে মূল্যায়ন/ সম্মান করবেনা।
©ফখরুল ইসলাম নবাব
কোন ডাঃ নয়, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কিছু স্টাডি করে জানা ও শেয়ার করা।

Leave your thought here

Your email address will not be published.

Call Now

Select the fields to be shown. Others will be hidden. Drag and drop to rearrange the order.
  • Image
  • SKU
  • Rating
  • Price
  • Stock
  • Availability
  • Add to cart
  • Description
  • Content
  • Weight
  • Dimensions
  • Additional information
  • Attributes
  • Custom attributes
  • Custom fields
Click outside to hide the compare bar
Compare
Compare ×
Let's Compare! Continue shopping
Need Help? Chat with us